শুক্রবার, ৩ মে, ২০১৩

পৃথিবী ক্রমশ: ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে

ধ্বংস ধ্বংস ওহে সবাই শুনোওই দেখ প্রলয়করী ঝড় তেড়ে আসছেমাটি কাপছে,মাটি..ভূমিকম্পে আমাদের সবাইকে তলিয়ে দিয়ে যাবেবাঁচো বাঁচো ওহে তোমরা কি কেউ শুনতে পাচ্ছ? পৃথিবী ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ক্রমশসতর্ক হওনামায পড়প্রার্থনার জন্য মসজিদ,মন্দিরে গিয়ে আশ্রয় নাওপরম সত্তাকে বেশি বেশি স্মরণ করতিনি রাগলে ভূমিকম্প-জলোচ্ছাস,সিডর-সাইক্লোন-নারগিস ভয়ংকর ঝড় দিয়ে আমাদের মেরে ফেলবেনপাপাচারে নুয়ে পড়েছে পৃথিবীযার ফলে পৃথিবী ক্রমশ ছোট হয়ে আসছেকমে আসছে প্রাণীদের গড় আয়ুবাঁচবো আর কবছর! সময় ফুরিয়ে আসছেকেয়ামত ধেয়ে আসছেফেসে উঠছে সমুদ্ররাগান্বিত প্রকৃতি এমন কিছু আওয়াজ মাঝে মাঝে কর্ণকুহরে বেজে উঠছে কয়েকদিন ধরেমনের ভিতর ডানা মেলছে কিছু লেখার জন্যআনাচে-কানাচে মানুষের মুখ থেকে শ্রবনিত হই,মানুষ নাকি ভাল নেইমানুষ আর মানুষ নেইমানুষই মানুষের মূল শত্রম্নতাতে আতংকিত হইভয়ার্ত ভীতি নিয়ে চলাচল করে এখন মানুষজীবনের নিরাপত্তা নেইচারদিকে দ্বন্ধ-সংঘাততীব্র অস্থিরতাহত্যার নাশকতাযেখানে-সেখানে পড়ে থাকে লাশ! বিষন্ন পৃথিবীর বিপন্ন প্রকৃতিভয়াবহ চিত্র-স্বপ্ন-কল্পনার দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখি এইসব বর্তমান পরিস্থিতির দৃশ্যাপটপৃথিবী ধ্বংসের তান্ডবলীলা শুরম্ন হয়ে গেছেসুন্দর এ বাসযোগ্য পৃথিবী ক্রমশ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে সেটাতে কোন সংশয় নেইবোধয় মানুষের যন্ত্র আবিস্কারের বিস্ফোরনে এ ধ্বংস নেমে আসছেবেশ কিছু দিন আগ থেকে স্বীয় চর্ম চÿুতে ধরা পড়ছে বিশ্বের বুকে নানা অরাজকতানাশকতাযুদ্ধে বিধ্বসত্ম বিভিন্ন বিশ্বের নগর-শহর,রাষ্ট্রহতাহত মানুষলাশে লাশ স্ত্তপবিষন্ন প্রকৃতির বিষাক্ত বাতাসগত বছর থেকে নিয়মিত প্রচার হয়ে আসছে ডিসকভারি চ্যানেলের নাসার প্রামাণ্য চিত্র ২১ ডিসেম্বর ২০১২ কি হতে যাচ্ছেএদিনেই নেমে আসবে পৃথিবীর উপর বিশাল দূর্যোগ-জলোচ্ছাসধ্বংসে পরিণত হবে এই বিশ্বমুসলমান হয়ে এটা বিশ্বাস করতে পারিনাকেননা পৃথিবী ধ্বংস হবে মহাপ্রলয় বা পস্নাবন দিয়েপবিত্র কোরআনে আছে ‘‘যখন কেয়ামত সংঘটিত হবেযার সংঘটিত হওয়াতে মিথ্যার কোন অবকাশ নেইযা কতককে করবে নিচু,কতককে করবে সমুন্নতযখন জমি ভীষণভাবে প্রকম্পিত হবেআর পাহাড়-পর্বত ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবেফলে তা বিক্ষোপ্ত ধূলিকণায় পর্যবসিত হবে’’ (আল-কোরআন-সূরা ওয়াকিআ-১-৬)
 কোন সভ্যতাকে ধ্বংস করে ফেলা সেটা ওই সভ্যতার জন্য আরবি ভাষায় কেয়ামতপৃথিবীও ধ্বংস হবে কেয়ামত দিয়েইবিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত মুহাম্মদ (সা.)এর উপর নাযিলকৃত পবিত্র আল-কোরআনসহ তাফসীরগুলোতেপবিত্র ইসলাম ধর্ম বর্ণনা করে পৃথিবী ধ্বংস হবে কিয়ামত দিয়েইকোন ধর্মই মিথ্যা বলেনা  নীতি-নৈতিকতা জাতিকে শিক্ষা দেয়তবে পবিত্র ইসলাম ধর্মের মত শ্রেষ্ঠ ধর্মের আর কোন শ্রেষ্ঠ ধর্ম এই ধরাধমে নেইএ ধর্মে কোন প্রকার ভ্রামিত্ম নেইবিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মদ (সা.) যার ধর্ম পবিত্র ধর্ম ইসলামমহান আলস্নাহ্ তাআলা বিশ্বের সকল জাতিকেই উদ্দেশ্য করে বলেছেন, একমাত্র ইসলামই আমার মনোনীত ধর্মতাই মহান সত্তার যেকোন বাণীই তার সৃষ্টজাতি,ভূমন্ডল,বায়ুমন্ডল তথা সমসত্ম সৃষ্টজগত এর জন্য চির সত্যআর পবিত্র কুরআন যা বলে তাতে কোন সংশয় নেইএই সেই কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নেই’ (সূরা আল-বাকারা-২)


 পৃথিবী যে ধ্বংসের অতি সন্নিকটে তাতে কোন সন্দেহ নেইকিন্তু কখন,কবে,কোন সময়ে পৃথিবী ধ্বংস হবে? এই প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর ভ্রামত্ম জ্যোতিবিজ্ঞানী কিংবা গাজাখোর গণকের মত দিন-তারিখ-সময় বলার সাধ্য আমার নেইকেননা মহান আলস্নাহ তাআলার অসংখ্য সৃষ্টি জাতির মধ্যে আমিও একটিরতাই প্রাণীর ক্ষমতা নেই নীলনদে অভিশপ্ত ফেরাউনের মত নিজেকে খোদায়ী দাবি রেখে এমনটি বলতেযে ফেরাউন নিজেকে খোদা ভেবে তার জাতিকে অংগীকার দিয়েছিল প্রচন্ড খরার পানি তৃষ্ণায় আগামীকাল নির্দিষ্ট সময়ের বৃষ্টিপাত ঘটানোর? এমন গণক আমি নইতবে কুরআন-হাদিসের আলোকে বলতে পারি পৃথিবী তখনই ধ্বংস হবে যখন পৃথিবীতে মানুষ ভুলে যাবে সব ধর্মবিশ্বাস উঠে যাবেমানুষ ভুলে যাবে সব নৈতিকতাউঠে যাবে ঐশী বাণী  মুছে যাবে কুরআনের অক্ষরসেদিনটি হবে শুক্রবারসেদিনটি হবে খুবই ভয়াবহতবে কুরআন-হাদিসের আলোকে মানুষও এখন ধর্মের প্রতি আনুগত্যশীলমসজিদে এখনও মুসলস্নীর উপচে পড়ার ভীড়ঈমান-আমল নিয়ে মানুষ এখনও পরহেজগারতবে বর্তমান সভ্যতা ক্রমশ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেযা এটাই শেষ সভ্যতাএর আগে বহু সভ্যতা পবিত্র কুরআন ও ইতিহাস পড়ে জেনেছি ধ্বংস হয়েছে
 মহা পস্নাবনে নুহ (আ) এর জাতি,সালেহর আদ-সামুদ জাতিসহ বহু জাতি সভ্যতাআজকে এই বিশ্ব সভ্যতায় কোন সতর্ককারীরম্নপে অর্থাৎ যেহেতু কোন নবী-রাসুল পৃথিবীতে নতুন করে আসবেন নাকেননা খাতামুন নাবিয়্যীন হযরত মুহাম্মদ (সা.) দিয়েই পৃথিবীর শেষ নবী বলে অবহিত করা হয়েছেপৃথিবী শুরম্ন হয়েছে আদি মানব ও প্রথম নবী হযরত আদম (আ.) কে দিয়েআর শেষ হয়েছে  হযরত মুহাম্মদ (সা.)কে দিয়েইতার মধ্যে মুহাম্মদ (সা.)ও ওফাত হয়েছেন আজ প্রায় ১৫ বৎসর হয়ে যাচ্ছেতাই নিশ্চিত হয়েই বলা যায় পৃথিবী এখন ধ্বংসের মুখোমুখিতে অবস্থান করছেহাদিস-কুরআনের বর্ণানুসারে-নিশ্চয় এ পার্থিব ক্ষনস্থায়ীধ্বংস অনিবার্যঅন্যান্য রেওয়াতে-পৃথিবী ধ্বংস হবে তখনি,যখন মানুষের ওপর মানুষের বিশ্বাস বিশেষণটা উঠে যাবেনষ্ট-নোংড়া ও পাপের পথে পা বাড়াবে মানুষঅত্যাধিক হত্যাকান্ড সংঘটিত হবেজাতিতে জাতিতে তুমুল দ্বন্ধ-বিদ্রোহের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠবে অপর জাতিভাই ভাইকে,পুত্র-পিতা-মাতাকে খুন করবে,ভাই বোনের সাথে যেনা করবে, ছেলে মায়ের যেনা করবে নির্লজ্জভাবেই (নাউয়ুজুবিলস্নাহ)পুরম্নষতান্ত্রিক ক্ষমতা চলে যাবে নারীতান্ত্রিকের হাতেতসলিমা নাসরিনের মত নারীরা পুরম্নষের সমান অধিকার আদায় করতে রাজপথ কাপিয়ে তুলবেনারীরা পুরম্নষ সাজবেচুল খাটো করবে পুরম্নষদের মতস্যুট-টাই,জিন্স পোশাকে নারীকে আর নারী বলে চেনা দায় হয়ে দাঁড়াবেনারীর নগ্নাচারিতা শরীর উত্তাপ ছড়াবেবেড়ে যাবে ধর্ষণ,অপহরণ,ইভটিজিংসহ নানা অপকর্ম
 পুরম্নষরা দাসে পরিণত হবেনারীর নেতৃত্ব পুরম্নষরা বিবেকহীনতায় বাহবা দিবেমুখ বুজে সয়ে নিবে  গৃহ গিন্নির তথা হোম মিনিস্টার অযাচিত সব অত্যাচারস্কুল-কলেজ-ভার্সিটিগুলোতে ভরে যাবে নষ্ট কালচারশিক্ষার্থীরা ভুলে যাবে আদর্শ শিক্ষার নৈতিকতার মৌলিকতাঅবৈধ যৌন বিচরনে মোহিত হবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যান্টিন,হল,নির্জন কক্ষ,পার্ক,আবাসিক হোটেলগুলোতেনারীরাই পুরম্নষদের নিজ ইচ্ছানুযায়ী বিয়ে করতে শুরম্ন করবেযৌন সম্ভোগে নারীর ইচ্ছাই  বেশী প্রাধান্য পাবেফলত লজ্জা জিনিসটা উঠে যাবেটিভির পর্দার মডেল শোতে নারীরা অংশ নিবে অর্ধনগ্ন পোশাকেপত্রিকার কভার প্রচ্ছদে স্থান পাবে নারীর নগ্ন শরীরে উত্তাপ পোজবাজারে নষ্ট বইয়ের ছড়াছড়িতে ভরপুর হবেবের হবে কামিনীর নির্জন রাত,সেলিনার প্রথম যৌবন বসমত্ম,জংলী রাণী এসব নামের হাজারো নোংড়া সেক্সুয়্যাল বইএই লিটল ম্যাগ সেক্সুয়্যাল বইগুলোর প্রচ্ছদে কিংবা দ্বিতীয় পৃষ্ঠা লেখা থাকবে অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য পাঠযোগ্য নয়বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতার অংশ নিবে নারীরাসিনেমা-চলচ্চিত্রে নারীকে বে-আব্রম্নতায় নষ্টামীয়তা অসুষ্ঠু হয়ে পড়বে জাতি সমাজএই শুরম্ন হবে নগ্ন শরীরের শ্বেতাঙ্গ নারী দেহ প্রদর্শনকয়েক ডলার ব্যয় করলেই সুইমিং,ক্যান্টিনগুলোতে ভোগ করা যাবে এমন অফারের আহবান করবে একশ্রেণীর পশ্চিমা নষ্ট খ্রিষ্টান-ইহুদি নষ্ট ব্যবসায়ীরা
 নারীরা অর্ধনগ্ন শরীর প্রদর্শনে সিস্নমকার্ট,পাতলা মিহি পোশাক ব্যবহার করে বেড়াবেযুবকদের তাড়িত করবে পাগলা কুকুরের মতনারীর বেশালীন পোশাক যৌন উত্তাপ মধ্য দুপুরের তেজি সুর্যের কিরনের মত ঝরে পড়বেযুবকদের মনে তীব্র উন্মাদতা সৃষ্টি হবেফলে নারীরা পদে পদে হবে লাঞ্চিত,ধর্ষিত,কলংকিতবাড়তে থাকবে ইভটিজিং,অপহরনের মত অপরাধসমূহনারীর নগ্ন শরীর,যুবকের ইভটিজিংদুয়ে মিলে পুরম্নষ ভূষিত হবে ইভটিজার-এমাস ছয়মাস যুবকের কারাগার বরণনারীর এ নগ্নচারিতায় ধর্ম হবে লাঞ্চিতসমঅধিকার আন্দোলনে নারীতান্ত্রিক সরকারকোন উত্তেযনামুলক কথা যদি ইভটিজিং সংজ্ঞা  হয়,তাহলে নারীর মুখ থেকেও অনেক সময় শুয়োরের বাচ্চা, কুত্তার বাচ্চা,ইডিয়েট,নন্সসেন্সমূলক কথাগুলো কি ইভটিজিংয়ের মধ্যে পড়ে না? অবলা নারীর সবলা বাক্যচারনে জর্জরিত বিশ্বের হাজারো গৃহ পুরম্নষ সমাজপশ্চিমা বিশ্বের সাদা-কালো আমেরিকার শ্বেতাঙ্গ,আফ্রিকার নিগ্রো; খ্রিষ্টান-ইহুদিদের নগ্ন সংস্কৃতির ছোবলে আক্রামত্ম আজকের বিশ্বের শির উচু করা মুসলিম সম্প্রদায়হাতে হাতে নগ্নতার বিলাসনারী-পুরম্নষের উলঙ্গ শরীরসমকামিতাউন্মুক্ত বিকৃত যৌনাচারনষ্ট প্রজন্মের নব্য যুব সমাজযার ফলে যুবকরা হারাচ্ছে যৌবন উন্মাদ শক্তিকমে যাচ্ছে সমত্মান উৎপাদনের যৌনশক্তিহাতে হাতে (মুঠোফোনে) নগ্নতার উত্তাপে যুবকেরা স্বীয় যৌবনের উত্তেজনায় নিজ হসেত্ম ধ্বংস করছে পুরম্নষত্বধ্বজভঙ্গরম্নপ নিচ্ছে হিজরায়একাধিক নারীর সংগম মিলনে নিজ অন্ত্রে প্রবেশ করছে এইডস নামক মরণঘাতক রোগব্যাধিনারীরাও বসে নেইএকাধিক পুরম্নষের সঙ্গকলেজ-ভার্সিটির নানা হলরম্নম,ক্যান্টিন,পার্কগুলোতে বয়ফ্রেন্ডের সাথে অনৈতিক সম্পর্কভাড়ায় খাটে নানা অভিজাত হোটেলগুলোতেএই অনৈতিক ব্যাবিচারের পাপাচারই পৃথিবীকে পৌছে দিচ্ছে ধ্বংসের দিকে
 ধর্মকে পদদলিত করে ধর্মহীন কিছু মানুষ ছুটছে পতঙ্গ পালের মতমসজিদ,মন্দিরে বোমা বিস্ফোরণধর্মপ্রাণ মানুষকে হত্যা করার রক্তের হলি খেলাধর্ম কি সেটা আসেত্ম আসেত্ম মানুষ ভুলে যেতে থাকবেআফগানিসত্মানের মত কিছু অসভ্য মানুষ পবিত্র গ্রন্থ কুরআন পুড়ানোর জন্য উন্মাদ হয়ে উঠবেভুলে যাবে ধর্মের ভেদাভেদসম্পর্ক হয়ে দাঁড়াবে চরম শত্রম্নতায়তারই প্রেক্ষিতে বর্তমান সভ্যতায় নিশ্চিত নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে বলা যায় মানুষই মানুষের প্রধান শত্রম্নজাতি জাতির শত্রম্নপ্রতারণার ফাঁদে ফেলে ধ্বংস করে  এক আরেকজনকেসুষ্ঠু সভ্যতাকে অসুস্থ্য করার নেশায় মানুষ এখন অর্থলোভ ও ক্ষমতার লোভে অন্ধবিবেককে কালো পর্দায় ঢেকে দিয়েছেযার ফলে মানব হৃদয় হয়ে দাঁড়িয়েছে পাথর কিংবা কঠিন কোন পদার্থেপ্রযুক্তি ঝলকানো-ঝলসানো সভ্যতা আবিস্কারক তো মানুষযুগে যুগে নষ্টমীয়তার দরম্নণ কত সভ্যতা ক্ষয়ে বিলীন হয়েছেধ্বংস হয়েছে অগণিত জাতি-সভ্যতামানুষ এখন হিংস্র বন্যপ্রাণী ভয়ে আচ্ছন্ন নয়তাদের হিংস্র থাবা দেখে কাবু বা চিমিত্মত নয়চিমিত্মত মানুষকে দেখেবন্যপ্রাণী হতে বাঁচা যায়কিন্তু ঘরের শত্রম্ন,জাতি শত্রম্ন হতে বাঁচা যায়নাযার পরনায় মানুষই এখন পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষীপ্র,হিংস্র,ভয়ঙ্কর,ঘাতক প্রাণীজাতি জাতির মাংস খায়নাকিন্তু মানুষ খায়সর্বভুক মানুষ এক আশ্চর্য্য প্রাণীসে হাড্ডি,মাংস সবই খায়যার সর্বনাম নরঘাতক,নরপিশাচ,নরখাদক
 মানুষ এখন বণ্যপ্রাণী শিকার করতে কামান-বন্দুক ব্যবহার করে নাব্যবহার করেনা রাইফেল নামক যন্ত্রটিমানুষকে শিকার করতেই ব্যসত্ম এখন মানুষরাষ্ট্র দখল,অর্থলুটপাত করতেই ব্যবহার হচ্ছে অত্যাধুনিক সব যন্ত্রআবিস্কার হচ্ছে নিত্যনতুন যতসব যন্ত্রকাটা রাইফেল,পিসত্মল,রিভলভার,এমএলজি,মিশিনগান,টাইম বোম্ব,পারমানবিক বোমা,  ক্কেপনাস্ত্র,গোলাবারম্নদ,যুদ্ধ বিমান,চালকবিহীন যান,জলযান সাবমেরিন,গ্রেণেড এসব শক্তিশালী যন্ত্র আবিস্কার এখন মানুষ মানুষকেই মারার জন্যশুধু কি তাই! এই অত্যাধুনিক যন্ত্র ছাড়াও মানুষ ধ্বংস কার্যে হাত দিয়েছে খাদ্যের মধ্যেওখাবারে বিষফসলে রাসানিকফল-ফলামিত্মতে বিষমাছে ফরমালিনবিষাক্ত ঔষধএই ধ্বংসাত্মক আক্রমনে ছোট হয়ে আসছে মানুষের জীবন কমে আসছে গড় আয়ুঅল্প বয়সে বৃদ্ধবরণখাদ্যের ভেজালে মানুষের বিবেকহীনতা,নীতিহীনতা,ধর্মহীনতায় পৃথিবী ধ্বংসের জ্বরে আক্রামত্মমহান সৃষ্টিকর্তা ক্রমাগত হয়ে উঠছেন অসন্তুষ্টবারবার ঐশীবাণী পবিত্র কুরআনে সতর্ক করে বলেছেন-‘‘তারা কি দেখেনি যে,তাদের পূর্বে কত মানব-গোষ্ঠীকে আমি ধ্বংস করেছি,যাদের আমি দুনিয়ায় এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম যেমন তোমাদের করিনিআর আমি তাদের উপর বৃষ্টি বর্ষন করেছিলাম এবং প্রবাহিত করেছিল তাদের নিমণদেশে নহরসমুহতারপর তাদের পাপের দরম্নন আমি তাদের ধ্বংস করে দিয়েছি এবং পরে অন্য মানবগোষ্ঠী সৃষ্টি করেছি’’ (সূরা আনআম-৬)
 পৃথিবী ধ্বংস হবে একমাত্র মানব জাতির পাপাচারের কারনেইমানুষের পাপ এমন এক পর্যায়ে গিয়ে পৌছবে যা হবে অসহনীয়ধ্বংসই তখন ফরজ হয়ে দাঁড়াবেযেমন যে ব্যক্তি তার নিজ জীবন রক্ষার্থে আরেকজনকে হত্যা করে তার স্বীয় হসেত্মইঅতীতে কোন সভ্যতার কওম যখন চরম অবাধ্য হয়ে পাপাচারে লিপ্ত হয়েছিল,সে সভ্যতায় সতর্ককারী থাকা স্বত্ত্বেও মহান প্রভু সেই সব সভ্যতাকেও ধ্বংস করে দিয়েছেন‘‘কত জনপদ আমি ধ্বংস করেছি যার অধিবাসীরা ছিল জালিম,এসব জনপদ এখন ধ্বংস স্ত্তপে পরিণত হয়েছে, এবং কত কূপ পরিত্যক্ত হয়েছে ও কত সূদুর প্রাসাদও ধ্বংসস্ত্তপে পরিণত হয়েছেতবে কি তারা দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করেনি? তাহলে তারা এমন হৃদয়ের অধিকারী হত যদ্দবারা তারা বুঝতে পারতো,অথবা তারা এমন কর্ণের অধিকারী হত যদ্দবরা তারা শুনতে পারতোবস্ত্ততঃ চক্ষু তো অন্ধ হয় না,বরং অন্ধ হয় বক্ষস্থিত হৃদয়’’ (সূরা হজ্জ্ব:৪৫-৪৬)
সভ্যতা ধ্বংস করে মহান সৃষ্টিকর্তা নতুন সভ্যতা সৃষ্টি করেছেনসেই ধ্বংস থেকে দৃষ্টামত্ম পরবর্তী জাতিকে স্মরণ করিয়ে দেন,পূর্বে জাতি-সভ্যতাকে কিভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল? তারা কি এই জাতির তুলনায় শক্তিশালী ছিল কীনা? ‘‘আর তিনিই ধ্বংস করেছে প্রাচীন আদ সম্প্রদায়কে এবং সামুদসম্প্রদায়কেও,কাউকে তিনি ছাড়েনি,আর তাদের পূর্বে নূহের কওমকেও,তারা তো ছিল বড় জালিম,অতিশয় অবাধ্য,আর তিনিই লুতের সম্প্রদায়ের উপড়ানো জনপদকে শূন্যে উত্তোলন করে নিÿÿপ করেছেনঅত:পর সে জনপদকে আচ্ছন্ন করে ফেলল যা আচ্ছন্ন করার, আর আয়কাবাসীরাও ছিল অবশ্যই জালিমসুতরাং আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ নিয়েছিআর উভয় কওমের জনপদ প্রকাশ্য পথের পার্শ্বে অবস্থিত’’ (সূরা নাজম:৫০-৫৪ ও সূরা হিজর: ৭৮-৭৯)
 পৃথিবীর ধ্বংসের ব্যাপারে স্যাটেলাইট চ্যানেল ডিসকভারি বিখ্যাত মায়ান সভ্যতার সর্বশেষ ক্যালেন্ডারের যে উলেস্নখ আছে তাই প্রচার করে আসছে নাসানাসার এ প্রচারাভিযান মুসলিম সম্প্রদায় আলস্নাহ্ ব্যতিরেকে বিশ্বাস করতে পারে না২১ ডিসেম্বর ২০১২ তেই পৃথিবী ধ্বংস হতে যাচ্ছে এমন বিশ্বাস কুরআন অনুসারীর মুসলমানদের মোটেই  বিশ্বাযোগ্য নয়কোন জ্যোর্তিষীর কথা মুসলমানদের বিশ্বাস করতেও নিষেধ করা হয়েছেতাহলে মুসলিম গ্রন্থ আল-কোরআনের মতে পৃথিবী ধ্বংসের মূল মতবাদ কি? মানুষের পাপাচারের কারণে পৃথিবী ধ্বংস হবে শুরম্নতেই বলে আসছিপবিত্র কোরআনে মহান আলস্নাহ তাআলা বলেন, ‘‘তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করে,কেয়ামত সংঘটিত হবে? আপনি বলে দিনঃ এর জ্ঞান তো কেবল আমার রবের কাছেই রয়েছেআসমান ও জমিনে তা হবে ভয়ংকর ব্যাপার তা তোমাদের উপর কেবল অকস্মাৎ এসে পড়বে’’ (সূরা আরাফ:১৮৭)পৃথিবী ধ্বংসের ব্যাপারে মহান সত্তাই সম্যক জ্ঞান রাখেনতবে তিনি পার্থিব বা পৃথিবী ধ্বংসের ব্যাপারে যেসব ইংগিত বা কারণ উলেস্নখ করেছেন পবিত্র কুরআনে, ও ওহী মারফত জানিয়েছেন নবী-রাসুলদের, তা থেকে বর্তমান একটি পর্যায়ে আমরা পড়েছিসেটা হলো নারীর হাতে ক্ষমতা চলে যাওয়াআইয়্যামের জাহেলিয়ার যুগকেও ছাড়িয়ে যাওয়াএটা পৃথিবীর প্রাথমিক ধ্বংসের কয়েকটি কারনের একটি কারণবর্তমান বিশ্ব মানবের হাতেই ধ্বংসের কবজায় বন্দী এটাও বিশ্বাস করা যাবেনাকেননা বিশ্ব নিয়ন্ত্রক একমাত্র মহান সৃষ্টিকর্তাতিনি হয়ে যাওবললেই সমসত্ম পারমানবিক বোমা নিস্কৃীয় হয়ে যাবে,সমসত্ম মানব সৃষ্টি মানব হত্যার ভয়ানক সব যন্ত্র আবিস্কার বিলীন হতে কয়েক মিনিটও সময় লাগবে নাকেননা অতীতে এমন জাতির ফেরাউন,কারম্নন,হামান,নমরম্নদ,সাদ্দাদ,আবু জেহেল এর মত মানুষ আজকের এই সভ্যতায় নেইতারাও ধ্বংস হয়ে গেছেনকালের গর্ভে হারিয়ে গেছে তাদের সব দাম্ভিকতাতাই মানব সৃষ্টির কাছে পৃথিবী ধ্বংস হবে নাধ্বংস হবে একমাত্র সৃষ্টিকর্তার নির্দেশেই
 স্যাটেলাইট নাসা যে ভিডিও চিত্রটি ডিসকভারি চ্যানেলে দেখিয়েছে তা শুরম্নটা এরকম-২১ ডিসেম্বর ২০১২যেদিন আকাশ থেকে ঝরে পড়বে আগুনসেদিন সমুদ্র হঠাৎ উত্তোলিত হয়ে গ্রাস করবে পৃথিবীকেআর টুকরো টুকরো করে ফেলবে মহাদেশকেবহু ভবিষ্যত বক্তাদের মতে,২১ ডিসেম্বর লক্ষ ক্ষ লোকের মৃত্যু আশংকা রয়েছেওই দিনটিতে মানুষের কাছে খুব অশুভ দিন হিসেবেই আসবেআমাদের প্রকৃতি সেদিন ধ্বংস কার্যে মেতে উঠবেসেদিন এভাবেই শেষ হয়ে যাবে আমাদের পৃথিবীঅমত্মত: ভবিষ্যত বাণীই তাই বলেকি হতে পারে আমাদের এই দিনটিতে,এর সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত কারণ যে,আমাদের পৃথিবীকে ধ্বংস করতে পারেআর সত্যিই কি আমাদের পৃথিবী ধ্বংসের মুখোমুখিতে দাঁড়িয়েছেপৃথিবী ধ্বংসের ব্যাপারে একটি মতবাদ হলো এই যে,২১ ডিসেম্বর ২০১২ শুক্রবার সূর্য ঠিক সেই সময়ই উঠবে যখন তার উঠার কথাযদিও নিরী্ক্ষ রেখার উপরে অবস্থান কালে সূর্য আমাদের গ্যালাক্সির কেন্দ্রবিন্দু আর আমাদের পৃথিবী একদম মাঝামাঝিতে এসে দাঁড়াবে,আর পৃথিবী ধ্বংসের পথে নিবে প্রথম পদক্ষেপঅনেকেই মনে করেন যে,পৃথিবীর ওপর কোন এক বিধ্বংসী দূর্ভোগ আচরে পড়বেযখন মানব জাতির উপর আকাশ থেকেক দূর্ভাগ্য বর্ষণ করবেমাত্র একদিনেই পৃথিবীটা ঢাকা পড়ে যাবে ছাইয়ের আসত্মরনেব্যসত্মতম শহরগুলোর সড়কগুলো দিয়ে বয়ে যাবে গরম লাভার স্রোতআর ভূমি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে যাবে সব আকাশ সমান ইমারতআর সমুদ্রের বিশাল বিশাল ঢেউ মুছে নিয়ে যাবে আমাদের শেষ বিন্দুটুকু….নাসার এই কথার সাথে কিয়ামতের শুরম্নর কিছু মিল আছেআরেকদিকে লক্ষ লক্ষ লোকের মৃত্যুর আশংকা রয়েছে এটা পৃথিবী ধ্বংসের কারণ নয়সম্ভাব্য কারণপৃথিবী ধ্বংস এক জিনিস,আর লক্ষ লক্ষ লোকের মৃত্যু আরেক জিনিসতাই এই তারিখে পৃথিবী ধ্বংস হবে এটা কোন নিশ্চিত বিষয় নয়স্যাটেলাইট চ্যানেল ডিসকভারি ওই প্রামান্যচিত্র বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাতে যদিশব্দটি ব্যবহার করা হয়েছেযদি হয়তাহলে অনেক কিছু ঘটতে পারেক্ষতির আশংকা,স্যাটেলাইট ধ্বংস,বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ধ্বংস দিয়ে সভ্যতা অনেক দূর পিছিয়ে যাবে এমন আশংকা রয়েছেতাই পৃথিবী নিশ্চিতভাবে ধ্বংস হবার কোন নির্ভর যোগ্য তথ্য এটা নয়তবে পৃথিবী ক্রমশ: ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে এতে সন্দেহ নেইপৃথিবী ধ্বংসের পূর্বে মহান আলস্নাহপাক কিছু নজির বা আলামত দেখিয়ে থাকেনভয়াবহ ভূমিকম্প,সুনামি,সাইক্লোন, অনাবৃষ্টি খরার কবলে ভূমি ফাটল, ফসল উৎপাদন কমে যাওয়া, দূর্ভীক্ষ নেমে আসা, মানুষ তার নৈতিক চরিত্র হারিয়ে পাপের পথে হাটা, অত্যাধিক খুন-খারাপি,ব্যাবিচার-নগ্নতা,মহান সত্তার উপর থেকে বিশ্বাস কমতে থাকাসহ কারণগুলো যখন অতি সন্নিকটে এসে পৌছবে তখনি পৃথিবী রম্নপ নিবে ধ্বংসের লীলাখেলায়
পৃথিবী ধ্বংস বা কেয়ামতের ব্যাপারে পবিত্র কোরআনের নিন্মোক্ত আয়াতসমূহ:
‘‘আসমান ও জমিনের যাবতীয় গুপ্ত বিষয়ের জ্ঞান আলস্নাহরই এবং কেয়ামতের ব্যাপার তো চোখের পলকের ন্যায়,বরং তার চেয়েও দ্রম্নততর (সূরা নাহ্ল:৭৭)
 ‘‘ সেদিন কোন নারী গর্ভধারণ করবে না এবং সমত্মানও প্রসব করবে না’’ (সূরা সাজদা:৪৭)
 ‘‘ তবে কি তারা শুধু কিয়ামতেরই অপেক্ষা করছে,যেন তা তাদের উপর অকস্মাৎ এসে পড়ে,আর তারা টেরও না পায়? বন্ধু বা বান্ধবরা সেদিন একে অপরের শত্রম্ন হয়ে পড়বে,কেবল মোত্তাকীরা ছাড়া (সূরা যুখরম্নফ:৬৬-৬৭)
 ‘‘নিশ্চয় কিয়ামত আসবে,সেদিন প্রথম শিংগার ফুঁ প্রকম্পিত করবে,তাকে অনুসরণ করবে পরবর্তী শিংগার ফুঁসেদিন অনেক হৃদয় ভীত-বিহবল হবেতাদের দৃষ্টি ভয়ে অবনমিত হয়ে থাকবেযেদিন তারা দেখবে,সেদিন তাদের মনে হবে,যেন তারা পৃথিবীতে শুধু এক দিনের শেষাংশ অথবা প্রথমাংশ অবস্থান করেছিল। (সূরা নাযিআত: ৬-৯ ও ৪৬)
 ‘‘ যেদিন কর্ণবিদারক কিয়ামত সংঘটিত হবে,সেদিন মানুষ তার ভাই থেকে পলায়ন করবে,এবং নিজের মাতা ও নিজের পিতা থেকে,আর নিজের স্ত্রী ও নিজের সমত্মান-সমত্মতি থেকেওসেদিন তাদের প্রত্যেকেরই এমন ব্যসত্মতা থাকবে যে, তা তাকে অন্য দিকে মনোযোগী হতে দিবে না’’ (সূরা আবাসা: ৩৩-৩৭)

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন