ধ্বংস ধ্বংস ওহে সবাই শুনো। ওই দেখ প্রলয়করী ঝড় তেড়ে আসছে। মাটি কাপছে,মাটি..। ভূমিকম্পে আমাদের সবাইকে তলিয়ে
দিয়ে যাবে। বাঁচো
বাঁচো ওহে তোমরা কি কেউ শুনতে পাচ্ছ? পৃথিবী ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে
ক্রমশ। সতর্ক
হও। নামায
পড়। প্রার্থনার
জন্য মসজিদ,মন্দিরে গিয়ে আশ্রয় নাও। পরম সত্তাকে বেশি বেশি স্মরণ কর। তিনি রাগলে ভূমিকম্প-জলোচ্ছাস,সিডর-সাইক্লোন-নারগিস
ভয়ংকর ঝড় দিয়ে আমাদের মেরে ফেলবেন। পাপাচারে নুয়ে পড়েছে পৃথিবী। যার ফলে পৃথিবী ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। কমে আসছে প্রাণীদের গড় আয়ু। বাঁচবো আর ক’বছর!
সময় ফুরিয়ে আসছে। কেয়ামত
ধেয়ে আসছে। ফেসে
উঠছে সমুদ্র। রাগান্বিত
প্রকৃতি এমন কিছু আওয়াজ মাঝে মাঝে কর্ণকুহরে বেজে উঠছে কয়েকদিন ধরে। মনের ভিতর ডানা মেলছে কিছু লেখার
জন্য। আনাচে-কানাচে
মানুষের মুখ থেকে শ্রবনিত হই,মানুষ নাকি ভাল নেই। মানুষ আর মানুষ নেই। মানুষই মানুষের মূল শত্রম্ন। তাতে আতংকিত হই। ভয়ার্ত ভীতি নিয়ে চলাচল করে এখন
মানুষ। জীবনের
নিরাপত্তা নেই। চারদিকে
দ্বন্ধ-সংঘাত। তীব্র
অস্থিরতা। হত্যার
নাশকতা। যেখানে-সেখানে
পড়ে থাকে লাশ! বিষন্ন পৃথিবীর বিপন্ন প্রকৃতি। ভয়াবহ চিত্র-স্বপ্ন-কল্পনার
দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখি এইসব বর্তমান পরিস্থিতির দৃশ্যাপট। পৃথিবী ধ্বংসের তান্ডবলীলা শুরম্ন
হয়ে গেছে। সুন্দর
এ বাসযোগ্য পৃথিবী ক্রমশ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে সেটাতে কোন সংশয় নেই। বোধয় মানুষের যন্ত্র আবিস্কারের
বিস্ফোরনে এ ধ্বংস নেমে আসছে। বেশ কিছু দিন আগ থেকে স্বীয় চর্ম চÿুতে
ধরা পড়ছে বিশ্বের বুকে নানা অরাজকতা। নাশকতা। যুদ্ধে বিধ্বসত্ম বিভিন্ন বিশ্বের নগর-শহর,রাষ্ট্র। হতাহত মানুষ। লাশে লাশ স্ত্তপ। বিষন্ন প্রকৃতির বিষাক্ত বাতাস। গত বছর থেকে নিয়মিত প্রচার হয়ে
আসছে ডিসকভারি চ্যানেলের নাসার প্রামাণ্য চিত্র ২১ ডিসেম্বর ২০১২ কি হতে যাচ্ছে। এদিনেই নেমে আসবে পৃথিবীর উপর বিশাল
দূর্যোগ-জলোচ্ছাস। ধ্বংসে
পরিণত হবে এই বিশ্ব। মুসলমান হয়ে এটা বিশ্বাস করতে পারিনা। কেননা পৃথিবী ধ্বংস হবে মহাপ্রলয়
বা পস্নাবন দিয়ে। পবিত্র
কোরআনে আছে ‘‘যখন কেয়ামত সংঘটিত হবে। যার সংঘটিত হওয়াতে মিথ্যার কোন অবকাশ নেই। যা কতককে করবে নিচু,কতককে
করবে সমুন্নত। যখন
জমি ভীষণভাবে প্রকম্পিত হবে। আর পাহাড়-পর্বত ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাবে। ফলে তা বিক্ষোপ্ত ধূলিকণায়
পর্যবসিত হবে’’ (আল-কোরআন-সূরা ওয়াকি’আ-১-৬)।
কোন
সভ্যতাকে ধ্বংস করে ফেলা সেটা ওই সভ্যতার জন্য আরবি ভাষায় কেয়ামত। পৃথিবীও ধ্বংস হবে কেয়ামত দিয়েই। বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হযরত
মুহাম্মদ (সা.)এর উপর নাযিলকৃত পবিত্র আল-কোরআনসহ তাফসীরগুলোতে। পবিত্র ইসলাম ধর্ম বর্ণনা করে
পৃথিবী ধ্বংস হবে কিয়ামত দিয়েই। কোন ধর্মই মিথ্যা বলেনা। নীতি-নৈতিকতা
জাতিকে শিক্ষা দেয়। তবে পবিত্র ইসলাম ধর্মের মত শ্রেষ্ঠ ধর্মের আর কোন শ্রেষ্ঠ
ধর্ম এই ধরাধমে নেই। এ ধর্মে কোন প্রকার ভ্রামিত্ম নেই। বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত
মুহাম্মদ (সা.) যার ধর্ম পবিত্র ধর্ম ইসলাম। মহান আলস্নাহ্ তাআলা বিশ্বের সকল জাতিকেই উদ্দেশ্য করে
বলেছেন, একমাত্র ইসলামই আমার মনোনীত ধর্ম। তাই মহান সত্তার যেকোন বাণীই তার
সৃষ্টজাতি,ভূমন্ডল,বায়ুমন্ডল তথা সমসত্ম সৃষ্টজগত এর
জন্য চির সত্য। আর
পবিত্র কুরআন যা বলে তাতে কোন সংশয় নেই। ‘এই সেই কিতাব যাতে কোন সন্দেহ নেই’ (সূরা
আল-বাকারা-২)।
পৃথিবী
যে ধ্বংসের অতি সন্নিকটে তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু কখন,কবে,কোন
সময়ে পৃথিবী ধ্বংস হবে? এই প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর
ভ্রামত্ম জ্যোতিবিজ্ঞানী কিংবা গাজাখোর গণকের মত দিন-তারিখ-সময় বলার সাধ্য আমার
নেই। কেননা
মহান আলস্নাহ তাআলার অসংখ্য সৃষ্টি জাতির মধ্যে আমিও একটির। তাই প্রাণীর ক্ষমতা নেই নীলনদে
অভিশপ্ত ফেরাউনের মত নিজেকে খোদায়ী দাবি রেখে এমনটি বলতে। যে ফেরাউন নিজেকে খোদা ভেবে তার
জাতিকে অংগীকার দিয়েছিল প্রচন্ড খরার পানি তৃষ্ণায় আগামীকাল নির্দিষ্ট সময়ের
বৃষ্টিপাত ঘটানোর? এমন গণক আমি নই। তবে কুরআন-হাদিসের আলোকে বলতে পারি
পৃথিবী তখনই ধ্বংস হবে যখন পৃথিবীতে মানুষ ভুলে যাবে সব ধর্ম। বিশ্বাস উঠে যাবে। মানুষ ভুলে যাবে সব নৈতিকতা। উঠে যাবে ঐশী বাণী। মুছে
যাবে কুরআনের অক্ষর। সেদিনটি হবে শুক্রবার। সেদিনটি হবে খুবই ভয়াবহ। তবে কুরআন-হাদিসের আলোকে মানুষও এখন
ধর্মের প্রতি আনুগত্যশীল। মসজিদে এখনও মুসলস্নীর উপচে পড়ার ভীড়। ঈমান-আমল নিয়ে মানুষ এখনও পরহেজগার। তবে বর্তমান সভ্যতা ক্রমশ ধ্বংসের
দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যা এটাই শেষ সভ্যতা। এর আগে বহু সভ্যতা পবিত্র কুরআন ও ইতিহাস পড়ে জেনেছি
ধ্বংস হয়েছে।
মহা
পস্নাবনে নুহ (আ) এর জাতি,সালেহর আদ-সামুদ জাতিসহ বহু জাতি
সভ্যতা। আজকে
এই বিশ্ব সভ্যতায় কোন সতর্ককারীরম্নপে অর্থাৎ যেহেতু কোন নবী-রাসুল পৃথিবীতে নতুন
করে আসবেন না। কেননা
খাতামুন নাবিয়্যীন হযরত মুহাম্মদ (সা.) দিয়েই পৃথিবীর শেষ নবী বলে অবহিত করা
হয়েছে। পৃথিবী
শুরম্ন হয়েছে আদি মানব ও প্রথম নবী হযরত আদম (আ.) কে দিয়ে। আর শেষ হয়েছে হযরত
মুহাম্মদ (সা.)কে দিয়েই। তার মধ্যে মুহাম্মদ (সা.)ও ওফাত হয়েছেন আজ প্রায় ১৫ বৎসর
হয়ে যাচ্ছে। তাই
নিশ্চিত হয়েই বলা যায় পৃথিবী এখন ধ্বংসের মুখোমুখিতে অবস্থান করছে। হাদিস-কুরআনের বর্ণানুসারে-‘নিশ্চয়
এ পার্থিব ক্ষনস্থায়ী। ধ্বংস অনিবার্য’। অন্যান্য রেওয়াতে-পৃথিবী ধ্বংস হবে
তখনি,যখন মানুষের ওপর মানুষের বিশ্বাস বিশেষণটা উঠে যাবে। নষ্ট-নোংড়া ও পাপের পথে পা বাড়াবে
মানুষ। অত্যাধিক
হত্যাকান্ড সংঘটিত হবে। জাতিতে জাতিতে তুমুল দ্বন্ধ-বিদ্রোহের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে
উঠবে অপর জাতি। ভাই
ভাইকে,পুত্র-পিতা-মাতাকে খুন করবে,ভাই বোনের সাথে যেনা করবে, ছেলে
মায়ের যেনা করবে নির্লজ্জভাবেই (নাউয়ুজুবিলস্নাহ)। পুরম্নষতান্ত্রিক ক্ষমতা চলে যাবে
নারীতান্ত্রিকের হাতে। তসলিমা নাসরিনের মত নারীরা পুরম্নষের সমান অধিকার আদায়
করতে রাজপথ কাপিয়ে তুলবে। নারীরা পুরম্নষ সাজবে। চুল খাটো করবে পুরম্নষদের মত। স্যুট-টাই,জিন্স
পোশাকে নারীকে আর নারী বলে চেনা দায় হয়ে দাঁড়াবে। নারীর নগ্নাচারিতা শরীর উত্তাপ
ছড়াবে। বেড়ে
যাবে ধর্ষণ,অপহরণ,ইভটিজিংসহ নানা অপকর্ম।
পুরম্নষরা
দাসে পরিণত হবে। নারীর
নেতৃত্ব পুরম্নষরা বিবেকহীনতায় বাহবা দিবে। মুখ বুজে সয়ে নিবে গৃহ গিন্নির তথা হোম মিনিস্টার
অযাচিত সব অত্যাচার। স্কুল-কলেজ-ভার্সিটিগুলোতে ভরে যাবে নষ্ট কালচার। শিক্ষার্থীরা ভুলে যাবে আদর্শ
শিক্ষার নৈতিকতার মৌলিকতা। অবৈধ যৌন বিচরনে মোহিত হবে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের
ক্যান্টিন,হল,নির্জন কক্ষ,পার্ক,আবাসিক
হোটেলগুলোতে। নারীরাই
পুরম্নষদের নিজ ইচ্ছানুযায়ী বিয়ে করতে শুরম্ন করবে। যৌন সম্ভোগে নারীর ইচ্ছাই বেশী
প্রাধান্য পাবে। ফলত
লজ্জা জিনিসটা উঠে যাবে। টিভির পর্দার মডেল শোতে নারীরা অংশ নিবে অর্ধনগ্ন পোশাকে। পত্রিকার কভার প্রচ্ছদে স্থান পাবে
নারীর নগ্ন শরীরে উত্তাপ পোজ। বাজারে নষ্ট বইয়ের ছড়াছড়িতে ভরপুর হবে। বের হবে ‘কামিনীর
নির্জন রাত,সেলিনার প্রথম যৌবন বসমত্ম,জংলী রাণী এসব নামের হাজারো নোংড়া
সেক্সুয়্যাল বই। এই
লিটল ম্যাগ সেক্সুয়্যাল বইগুলোর প্রচ্ছদে কিংবা দ্বিতীয় পৃষ্ঠা লেখা থাকবে ‘অপ্রাপ্ত
বয়স্কদের জন্য পাঠযোগ্য নয়’। বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতার অংশ
নিবে নারীরা। সিনেমা-চলচ্চিত্রে
নারীকে বে-আব্রম্নতায় নষ্টামীয়তা অসুষ্ঠু হয়ে পড়বে জাতি সমাজ। এই শুরম্ন হবে নগ্ন শরীরের
শ্বেতাঙ্গ নারী দেহ প্রদর্শন। কয়েক ডলার ব্যয় করলেই সুইমিং,ক্যান্টিনগুলোতে
ভোগ করা যাবে এমন অফারের আহবান করবে একশ্রেণীর পশ্চিমা নষ্ট খ্রিষ্টান-ইহুদি নষ্ট
ব্যবসায়ীরা।
নারীরা
অর্ধনগ্ন শরীর প্রদর্শনে সিস্নমকার্ট,পাতলা মিহি পোশাক ব্যবহার করে
বেড়াবে। যুবকদের
তাড়িত করবে পাগলা কুকুরের মত। নারীর বেশালীন পোশাক যৌন উত্তাপ মধ্য দুপুরের তেজি সুর্যের
কিরনের মত ঝরে পড়বে। যুবকদের মনে তীব্র উন্মাদতা সৃষ্টি হবে। ফলে নারীরা পদে পদে হবে লাঞ্চিত,ধর্ষিত,কলংকিত। বাড়তে থাকবে ইভটিজিং,অপহরনের
মত অপরাধসমূহ। নারীর
নগ্ন শরীর,যুবকের ইভটিজিং। দু’য়ে মিলে পুরম্নষ ভূষিত হবে ইভটিজার-এ। মাস ছয়মাস যুবকের কারাগার বরণ। নারীর এ নগ্নচারিতায় ধর্ম হবে
লাঞ্চিত। সমঅধিকার
আন্দোলনে নারীতান্ত্রিক সরকার। কোন উত্তেযনামুলক কথা যদি ইভটিজিং সংজ্ঞা হয়,তাহলে
নারীর মুখ থেকেও অনেক সময় শুয়োরের বাচ্চা, কুত্তার বাচ্চা,ইডিয়েট,নন্সসেন্সমূলক
কথাগুলো কি ইভটিজিংয়ের মধ্যে পড়ে না? অবলা নারীর সবলা বাক্যচারনে জর্জরিত
বিশ্বের হাজারো গৃহ পুরম্নষ সমাজ। পশ্চিমা বিশ্বের সাদা-কালো আমেরিকার শ্বেতাঙ্গ,আফ্রিকার
নিগ্রো; খ্রিষ্টান-ইহুদিদের নগ্ন সংস্কৃতির ছোবলে আক্রামত্ম আজকের বিশ্বের
শির উচু করা মুসলিম সম্প্রদায়। হাতে হাতে নগ্নতার বিলাস। নারী-পুরম্নষের উলঙ্গ শরীর। সমকামিতা। উন্মুক্ত বিকৃত যৌনাচার। নষ্ট প্রজন্মের নব্য যুব সমাজ। যার ফলে যুবকরা হারাচ্ছে যৌবন
উন্মাদ শক্তি। কমে
যাচ্ছে সমত্মান উৎপাদনের যৌনশক্তি। হাতে হাতে (মুঠোফোনে) নগ্নতার উত্তাপে যুবকেরা স্বীয়
যৌবনের উত্তেজনায় নিজ হসেত্ম ধ্বংস করছে পুরম্নষত্ব। ধ্বজভঙ্গ। রম্নপ নিচ্ছে হিজরায়। একাধিক নারীর সংগম মিলনে নিজ
অন্ত্রে প্রবেশ করছে এইডস নামক মরণঘাতক রোগব্যাধি। নারীরাও বসে নেই। একাধিক পুরম্নষের সঙ্গ। কলেজ-ভার্সিটির নানা হলরম্নম,ক্যান্টিন,পার্কগুলোতে
বয়ফ্রেন্ডের সাথে অনৈতিক সম্পর্ক। ভাড়ায় খাটে নানা অভিজাত হোটেলগুলোতে। এই অনৈতিক ব্যাবিচারের পাপাচারই
পৃথিবীকে পৌছে দিচ্ছে ধ্বংসের দিকে।
ধর্মকে
পদদলিত করে ধর্মহীন কিছু মানুষ ছুটছে পতঙ্গ পালের মত। মসজিদ,মন্দিরে
বোমা বিস্ফোরণ। ধর্মপ্রাণ
মানুষকে হত্যা করার রক্তের হলি খেলা। ধর্ম কি সেটা আসেত্ম আসেত্ম মানুষ ভুলে যেতে থাকবে। আফগানিসত্মানের মত কিছু অসভ্য মানুষ
পবিত্র গ্রন্থ কুরআন পুড়ানোর জন্য উন্মাদ হয়ে উঠবে। ভুলে যাবে ধর্মের ভেদাভেদ। সম্পর্ক হয়ে দাঁড়াবে চরম
শত্রম্নতায়। তারই
প্রেক্ষিতে বর্তমান সভ্যতায় নিশ্চিত নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে বলা যায় মানুষই
মানুষের প্রধান শত্রম্ন। জাতি জাতির শত্রম্ন। প্রতারণার ফাঁদে ফেলে ধ্বংস করে এক
আরেকজনকে। সুষ্ঠু
সভ্যতাকে অসুস্থ্য করার নেশায় মানুষ এখন অর্থলোভ ও ক্ষমতার লোভে অন্ধ। বিবেককে কালো পর্দায় ঢেকে দিয়েছে। যার ফলে মানব হৃদয় হয়ে
দাঁড়িয়েছে পাথর কিংবা কঠিন কোন পদার্থে। প্রযুক্তি ঝলকানো-ঝলসানো সভ্যতা আবিস্কারক তো মানুষ। যুগে যুগে নষ্টমীয়তার দরম্নণ কত
সভ্যতা ক্ষয়ে বিলীন হয়েছে। ধ্বংস হয়েছে অগণিত জাতি-সভ্যতা। মানুষ এখন হিংস্র বন্যপ্রাণী ভয়ে
আচ্ছন্ন নয়। তাদের
হিংস্র থাবা দেখে কাবু বা চিমিত্মত নয়। চিমিত্মত মানুষকে দেখে। বন্যপ্রাণী হতে বাঁচা যায়। কিন্তু ঘরের শত্রম্ন,জাতি
শত্রম্ন হতে বাঁচা যায়না। যার পরনায় মানুষই এখন পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষীপ্র,হিংস্র,ভয়ঙ্কর,ঘাতক
প্রাণী। জাতি
জাতির মাংস খায়না। কিন্তু
মানুষ খায়। সর্বভুক
মানুষ এক আশ্চর্য্য প্রাণী। সে হাড্ডি,মাংস সবই খায়। যার সর্বনাম নরঘাতক,নরপিশাচ,নরখাদক।
মানুষ
এখন বণ্যপ্রাণী শিকার করতে কামান-বন্দুক ব্যবহার করে না। ব্যবহার করেনা রাইফেল নামক যন্ত্রটি। মানুষকে শিকার করতেই ব্যসত্ম এখন
মানুষ। রাষ্ট্র
দখল,অর্থলুটপাত করতেই ব্যবহার হচ্ছে অত্যাধুনিক সব যন্ত্র। আবিস্কার হচ্ছে নিত্যনতুন যতসব
যন্ত্র। কাটা
রাইফেল,পিসত্মল,রিভলভার,এমএলজি,মিশিনগান,টাইম
বোম্ব,পারমানবিক বোমা, ক্কেপনাস্ত্র,গোলাবারম্নদ,যুদ্ধ
বিমান,চালকবিহীন যান,জলযান সাবমেরিন,গ্রেণেড
এসব শক্তিশালী যন্ত্র আবিস্কার এখন মানুষ মানুষকেই মারার জন্য। শুধু কি তাই! এই অত্যাধুনিক যন্ত্র
ছাড়াও মানুষ ধ্বংস কার্যে হাত দিয়েছে খাদ্যের মধ্যেও। খাবারে বিষ। ফসলে রাসানিক। ফল-ফলামিত্মতে বিষ। মাছে ফরমালিন। বিষাক্ত ঔষধ। এই ধ্বংসাত্মক আক্রমনে ছোট হয়ে
আসছে মানুষের জীবন । কমে আসছে গড় আয়ু। অল্প বয়সে বৃদ্ধবরণ। খাদ্যের ভেজালে মানুষের বিবেকহীনতা,নীতিহীনতা,ধর্মহীনতায়
পৃথিবী ধ্বংসের জ্বরে আক্রামত্ম। মহান সৃষ্টিকর্তা ক্রমাগত হয়ে উঠছেন অসন্তুষ্ট। বারবার ঐশীবাণী পবিত্র কুরআনে সতর্ক
করে বলেছেন-‘‘তারা কি দেখেনি যে,তাদের পূর্বে কত মানব-গোষ্ঠীকে আমি
ধ্বংস করেছি,যাদের আমি দুনিয়ায় এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম যেমন তোমাদের
করিনি। আর
আমি তাদের উপর বৃষ্টি বর্ষন করেছিলাম এবং প্রবাহিত করেছিল তাদের নিমণদেশে নহরসমুহ। তারপর তাদের পাপের দরম্নন আমি তাদের
ধ্বংস করে দিয়েছি এবং পরে অন্য মানবগোষ্ঠী সৃষ্টি করেছি।’’ (সূরা
আন’আম-৬)
পৃথিবী
ধ্বংস হবে একমাত্র মানব জাতির পাপাচারের কারনেই। মানুষের পাপ এমন এক পর্যায়ে গিয়ে
পৌছবে যা হবে অসহনীয়। ধ্বংসই তখন ফরজ হয়ে দাঁড়াবে। যেমন যে ব্যক্তি তার নিজ জীবন
রক্ষার্থে আরেকজনকে হত্যা করে তার স্বীয় হসেত্মই। অতীতে কোন সভ্যতার কওম যখন চরম
অবাধ্য হয়ে পাপাচারে লিপ্ত হয়েছিল,সে সভ্যতায় সতর্ককারী থাকা
স্বত্ত্বেও মহান প্রভু সেই সব সভ্যতাকেও ধ্বংস করে দিয়েছেন। ‘‘কত
জনপদ আমি ধ্বংস করেছি যার অধিবাসীরা ছিল জালিম,এসব জনপদ এখন ধ্বংস স্ত্তপে পরিণত
হয়েছে, এবং কত কূপ পরিত্যক্ত হয়েছে ও কত সূদুর প্রাসাদও ধ্বংসস্ত্তপে
পরিণত হয়েছে। তবে
কি তারা দেশ-বিদেশ ভ্রমণ করেনি? তাহলে তারা এমন হৃদয়ের অধিকারী হত
যদ্দবারা তারা বুঝতে পারতো,অথবা তারা এমন কর্ণের অধিকারী হত
যদ্দবরা তারা শুনতে পারতো। বস্ত্ততঃ চক্ষু তো অন্ধ হয় না,বরং
অন্ধ হয় বক্ষস্থিত হৃদয়’’ (সূরা হজ্জ্ব:৪৫-৪৬)।
সভ্যতা ধ্বংস করে মহান সৃষ্টিকর্তা
নতুন সভ্যতা সৃষ্টি করেছেন। সেই ধ্বংস থেকে দৃষ্টামত্ম পরবর্তী জাতিকে স্মরণ করিয়ে
দেন,পূর্বে জাতি-সভ্যতাকে কিভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল? তারা
কি এই জাতির তুলনায় শক্তিশালী ছিল কীনা? ‘‘আর তিনিই ধ্বংস করেছে প্রাচীন আদ
সম্প্রদায়কে এবং সামুদসম্প্রদায়কেও,কাউকে তিনি ছাড়েনি,আর
তাদের পূর্বে নূহের কওমকেও,তারা তো ছিল বড় জালিম,অতিশয়
অবাধ্য,আর তিনিই লুতের সম্প্রদায়ের উপড়ানো জনপদকে শূন্যে উত্তোলন করে নিÿÿপ
করেছেন। অত:পর
সে জনপদকে আচ্ছন্ন করে ফেলল যা আচ্ছন্ন করার, আর ‘আয়কাবাসীরাও ছিল অবশ্যই জালিম। সুতরাং আমি তাদের থেকে প্রতিশোধ
নিয়েছি। আর
উভয় কওমের জনপদ প্রকাশ্য পথের পার্শ্বে অবস্থিত’’
(সূরা নাজম:৫০-৫৪ ও সূরা
হিজর: ৭৮-৭৯)।
পৃথিবীর
ধ্বংসের ব্যাপারে স্যাটেলাইট চ্যানেল ডিসকভারি বিখ্যাত মায়ান সভ্যতার সর্বশেষ
ক্যালেন্ডারের যে উলেস্নখ আছে তাই প্রচার করে আসছে নাসা। নাসার এ প্রচারাভিযান মুসলিম
সম্প্রদায় আলস্নাহ্ ব্যতিরেকে বিশ্বাস করতে পারে না। ২১ ডিসেম্বর ২০১২ তেই পৃথিবী ধ্বংস
হতে যাচ্ছে এমন বিশ্বাস কুরআন অনুসারীর মুসলমানদের মোটেই বিশ্বাযোগ্য
নয়। কোন
জ্যোর্তিষীর কথা মুসলমানদের বিশ্বাস করতেও নিষেধ করা হয়েছে। তাহলে মুসলিম গ্রন্থ আল-কোরআনের মতে
পৃথিবী ধ্বংসের মূল মতবাদ কি? মানুষের পাপাচারের কারণে পৃথিবী
ধ্বংস হবে শুরম্নতেই বলে আসছি। পবিত্র কোরআনে মহান আলস্নাহ তাআলা বলেন, ‘‘তারা
আপনাকে জিজ্ঞেস করে,কেয়ামত সংঘটিত হবে? আপনি
বলে দিনঃ এর জ্ঞান তো কেবল আমার রবের কাছেই রয়েছে। আসমান ও জমিনে তা হবে ভয়ংকর
ব্যাপার তা তোমাদের উপর কেবল অকস্মাৎ এসে পড়বে’’
(সূরা আ’রাফ:১৮৭)। পৃথিবী ধ্বংসের ব্যাপারে মহান
সত্তাই সম্যক জ্ঞান রাখেন। তবে তিনি পার্থিব বা পৃথিবী ধ্বংসের ব্যাপারে যেসব ইংগিত
বা কারণ উলেস্নখ করেছেন পবিত্র কুরআনে, ও ওহী মারফত জানিয়েছেন নবী-রাসুলদের, তা
থেকে বর্তমান একটি পর্যায়ে আমরা পড়েছি। সেটা হলো নারীর হাতে ক্ষমতা চলে যাওয়া। আইয়্যামের জাহেলিয়ার যুগকেও
ছাড়িয়ে যাওয়া। এটা
পৃথিবীর প্রাথমিক ধ্বংসের কয়েকটি কারনের একটি কারণ। বর্তমান বিশ্ব মানবের হাতেই ধ্বংসের
কবজায় বন্দী এটাও বিশ্বাস করা যাবেনা। কেননা বিশ্ব নিয়ন্ত্রক একমাত্র মহান সৃষ্টিকর্তা। তিনি ‘হয়ে
যাও’ বললেই সমসত্ম পারমানবিক বোমা নিস্কৃীয় হয়ে যাবে,সমসত্ম
মানব সৃষ্টি মানব হত্যার ভয়ানক সব যন্ত্র আবিস্কার বিলীন হতে কয়েক মিনিটও সময়
লাগবে না। কেননা
অতীতে এমন জাতির ফেরাউন,কারম্নন,হামান,নমরম্নদ,সাদ্দাদ,আবু
জেহেল এর মত মানুষ আজকের এই সভ্যতায় নেই। তারাও ধ্বংস হয়ে গেছেন। কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে তাদের সব
দাম্ভিকতা। তাই
মানব সৃষ্টির কাছে পৃথিবী ধ্বংস হবে না। ধ্বংস হবে একমাত্র সৃষ্টিকর্তার নির্দেশেই।
স্যাটেলাইট
নাসা যে ভিডিও চিত্রটি ডিসকভারি চ্যানেলে দেখিয়েছে তা শুরম্নটা এরকম-‘২১ ডিসেম্বর
২০১২। যেদিন
আকাশ থেকে ঝরে পড়বে আগুন। সেদিন সমুদ্র হঠাৎ উত্তোলিত হয়ে গ্রাস করবে পৃথিবীকে। আর টুকরো টুকরো করে ফেলবে মহাদেশকে। বহু ভবিষ্যত বক্তাদের মতে,২১ ডিসেম্বর
লক্ষ ক্ষ লোকের মৃত্যু আশংকা রয়েছে। ওই দিনটিতে মানুষের কাছে খুব অশুভ দিন হিসেবেই আসবে। আমাদের প্রকৃতি সেদিন ধ্বংস কার্যে
মেতে উঠবে। সেদিন
এভাবেই শেষ হয়ে যাবে আমাদের পৃথিবী। অমত্মত: ভবিষ্যত বাণীই তাই বলে। কি হতে পারে আমাদের এই দিনটিতে,এর
সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত কারণ যে,আমাদের পৃথিবীকে ধ্বংস করতে পারে। আর সত্যিই কি আমাদের পৃথিবী ধ্বংসের
মুখোমুখিতে দাঁড়িয়েছে। পৃথিবী ধ্বংসের ব্যাপারে একটি মতবাদ হলো এই যে,২১ ডিসেম্বর
২০১২ শুক্রবার সূর্য ঠিক সেই সময়ই উঠবে যখন তার উঠার কথা। যদিও নিরী্ক্ষ রেখার উপরে অবস্থান
কালে সূর্য আমাদের গ্যালাক্সির কেন্দ্রবিন্দু আর আমাদের পৃথিবী একদম মাঝামাঝিতে
এসে দাঁড়াবে,আর পৃথিবী ধ্বংসের পথে নিবে প্রথম
পদক্ষেপ। অনেকেই
মনে করেন যে,পৃথিবীর ওপর কোন এক বিধ্বংসী দূর্ভোগ আচরে পড়বে। যখন মানব জাতির উপর আকাশ থেকেক
দূর্ভাগ্য বর্ষণ করবে। মাত্র একদিনেই পৃথিবীটা ঢাকা পড়ে যাবে ছাইয়ের আসত্মরনে। ব্যসত্মতম শহরগুলোর সড়কগুলো দিয়ে
বয়ে যাবে গরম লাভার স্রোত। আর ভূমি ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে যাবে সব আকাশ সমান ইমারত। আর সমুদ্রের বিশাল বিশাল ঢেউ মুছে
নিয়ে যাবে আমাদের শেষ বিন্দুটুকু….। নাসার এই কথার সাথে কিয়ামতের
শুরম্নর কিছু মিল আছে। আরেকদিকে লক্ষ লক্ষ লোকের মৃত্যুর আশংকা রয়েছে এটা পৃথিবী
ধ্বংসের কারণ নয়। সম্ভাব্য
কারণ। পৃথিবী
ধ্বংস এক জিনিস,আর লক্ষ লক্ষ লোকের মৃত্যু আরেক
জিনিস। তাই
এই তারিখে পৃথিবী ধ্বংস হবে এটা কোন নিশ্চিত বিষয় নয়। স্যাটেলাইট চ্যানেল ডিসকভারি ওই
প্রামান্যচিত্র বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাতে ‘যদি’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। ‘যদি
হয়’ তাহলে অনেক কিছু ঘটতে পারে। ক্ষতির আশংকা,স্যাটেলাইট ধ্বংস,বৈদ্যুতিক
যন্ত্রপাতি ধ্বংস দিয়ে সভ্যতা অনেক দূর পিছিয়ে যাবে এমন আশংকা রয়েছে। তাই পৃথিবী নিশ্চিতভাবে ধ্বংস হবার
কোন নির্ভর যোগ্য তথ্য এটা নয়। তবে পৃথিবী ক্রমশ: ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে এতে সন্দেহ নেই। পৃথিবী ধ্বংসের পূর্বে মহান
আলস্নাহপাক কিছু নজির বা আলামত দেখিয়ে থাকেন। ভয়াবহ ভূমিকম্প,সুনামি,সাইক্লোন, অনাবৃষ্টি
খরার কবলে ভূমি ফাটল, ফসল উৎপাদন কমে যাওয়া, দূর্ভীক্ষ
নেমে আসা, মানুষ তার নৈতিক চরিত্র হারিয়ে পাপের পথে হাটা, অত্যাধিক
খুন-খারাপি,ব্যাবিচার-নগ্নতা,মহান সত্তার উপর থেকে বিশ্বাস কমতে
থাকাসহ কারণগুলো যখন অতি সন্নিকটে এসে পৌছবে তখনি পৃথিবী রম্নপ নিবে ধ্বংসের
লীলাখেলায়।
পৃথিবী ধ্বংস বা কেয়ামতের ব্যাপারে
পবিত্র কোরআনের নিন্মোক্ত আয়াতসমূহ:
‘‘আসমান
ও জমিনের যাবতীয় গুপ্ত বিষয়ের জ্ঞান আলস্নাহরই এবং কেয়ামতের ব্যাপার তো চোখের
পলকের ন্যায়,বরং তার চেয়েও দ্রম্নততর (সূরা
নাহ্ল:৭৭)।
‘‘ সেদিন
কোন নারী গর্ভধারণ করবে না এবং সমত্মানও প্রসব করবে না’’ (সূরা
সাজদা:৪৭)।
‘‘ তবে
কি তারা শুধু কিয়ামতেরই অপেক্ষা করছে,যেন তা তাদের উপর অকস্মাৎ এসে পড়ে,আর
তারা টেরও না পায়? বন্ধু বা বান্ধবরা সেদিন একে অপরের
শত্রম্ন হয়ে পড়বে,কেবল মোত্তাকীরা ছাড়া (সূরা
যুখরম্নফ:৬৬-৬৭)।
‘‘নিশ্চয়
কিয়ামত আসবে,সেদিন প্রথম শিংগার ফুঁ প্রকম্পিত
করবে,তাকে অনুসরণ করবে পরবর্তী শিংগার ফুঁ। সেদিন অনেক হৃদয় ভীত-বিহবল হবে। তাদের দৃষ্টি ভয়ে অবনমিত হয়ে
থাকবে। যেদিন
তারা দেখবে,সেদিন তাদের মনে হবে,যেন তারা পৃথিবীতে শুধু এক দিনের
শেষাংশ অথবা প্রথমাংশ অবস্থান করেছিল। (সূরা নাযি’আত: ৬-৯ ও ৪৬)।
‘‘ যেদিন
কর্ণবিদারক কিয়ামত সংঘটিত হবে,সেদিন মানুষ তার ভাই থেকে পলায়ন
করবে,এবং নিজের মাতা ও নিজের পিতা থেকে,আর নিজের স্ত্রী ও নিজের সমত্মান-সমত্মতি
থেকেও। সেদিন
তাদের প্রত্যেকেরই এমন ব্যসত্মতা থাকবে যে, তা তাকে অন্য দিকে মনোযোগী হতে দিবে
না’’ (সূরা আবাসা: ৩৩-৩৭)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন