প্রতিদিনকার মতো ভোরে উঠে রান্নাবান্নার শেষে গা’গোসল করে সকাল আটটার দিকে দলে দলে কাজে ফিরছিল গার্মেন্টস কর্মীরা। কে জানতো আজই তাদের শেষ দিন! জীবনের অস্ত নিভে যাবে কঠিন শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থায়! ধ্বংসলীলায় ধসে পড়বে তাদের কর্মস্থল ৯ তলা ভবনটি?
কিন্তু আশংকা ছিল, মনে ভয়ও জেগে উঠেছিল। মনটা কাজে যেতে চায়নি কিছুতেই। কারণ কি? কোন কিছু ঘটার পূর্বে মনটা প্রথম সিগন্যাল দেয়। সেই সিগন্যালটা দিয়েছিল এদেরও। গত মঙ্গলবার তাদের প্রিয় কর্মস্থল রানা প্লাজার ভবনটির ৩য় তলা ফাটল ধরা দেখা দেয়। এমনিতে ঢাকা পৃথিবীর বিপজ্জনক শহরদের মধ্যে অন্যতম।
যে কোন শক্তিশালী প্রাকৃতিক দূর্যোগে ভুপাতিত হয়ে যেতে পারে এ শহরের অট্টালিকার মত ইমারতগুলো। ভূমিকম্পনে ধসে সমতল ভূমিতে পরিণত হতে পারে এমন হলুদ সিগন্যালও এসেছে বিশ্ব আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে। সে কারণে ভয়ের মাত্রাটা ছিল শঙ্কা দেওয়ার মত। শ্রমিকরা এই ফাটলধরা ভবনে কাজে আসতে অনীহা জানালে ক্ষিপ্ত হয় মালিকপক্ষ।
এক পিলারে ফাটল ধরলে ভয়ের কিছু নেই অনিশ্চিত শান্তনাবানী দেন তারা। তারপরেও শ্রমিকদের শংকা, যদি কিছু হয়ে যায়! এবার মালিকপক্ষের চোখে ঝরে আগ্নেগিরির হুমকি-ধামকির বারুদ। চাকরিচ্যুত করার হুমকি। এই জনবহুল শহরে নতুন আরেকটা চাকরি নিতে অনেক ঘুরতে হয়। বাসায় বসে থাকতে হয়। গার্মেন্টসের অধিকাংশ নারী।
তাই পুরুষদের তুলনায় নারী শ্রমিকদের বেতনও কম। তার মধ্যে বসে থাকাও সমস্যা। পেটের দায়ে মা-বাবা তথা পরিবার ছেড়ে এই যানজট শহরে বসবাস। ধুলোবালি আর যান্ত্রিকতার যাতাকলে জীবনকে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে যেন যন্ত্রমানবে। তাই নানা চিন্তাফিকির করে ঘর থেকে বের হয় শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে। সকাল ৮টায় মনে শঙ্কা নিয়েও কাজে যোগ দেয়। হাজিরা খাতায় সই করে স্ব-স্ব ইউনিটে কাজ শুরু করে। প্রতিদিনকার মতো কাজ করতেছিল তারা।
গল্পে, কথা-বার্তায় কাটে পুরো দিনের মতো সারা মাস-বছর। কিন্তু হঠাৎ করেই কেমন যেন বিকট একটা শব্দ হলো। সেই শব্দের কয়েক মিনিটের মধ্যেই গুড়ুম করে ধসে পড়লো তাদের মাথার ওপর কংক্রিটের গড়া ভারি ছাদটা। চুন-দেওয়ালের চাপায় পিষ্ট হলো তারা। বিদ্যুতহীন গুমোট অন্ধকার। ইলেক্ট্রিসিটির তার ছিঁড়ে একাকার।
ভবনের ভিতর থেকে আটকে পড়াদের চিৎকার-কে আছ, আমাদের বাঁচাও। বধির হয়ে চাপা দিয়ে থাকে ধসে পড়া ছাদ। বাতাসহীন ভিতরকার ভয়ংকর শ্বাসরুদ্ধকর পরিবেশ। আওয়াজ বের হচ্ছে না; আর্তনাতের প্রতিধ্বণি ফিরে আসে কিন্তু উদ্ধারকারীর কারোও দেখা মেলে না। আস্তে আস্তে দম বন্ধ হয়ে আসে বাতাসের অভাবে।
চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে সাভারের রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ে আটকা পড়েছে হাজার হাজার শ্রমিক। উদ্ধারের জন্য ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। আস্তে আস্তে জনারণ্য হয়ে উঠতে থাকে ঘটনাস্থল। এদিকে বিরোধীদলের ডাকা হরতাল। দুপুর হয়ে আসে। সাভার পরিণত হয় জনস্রাতে। এ স্রাতে কোন মিছিল সমাবেশের নয়; এ জনস্রাতে কোন লংমার্চের নয়।
এ জন স্রাতে স্বজন হারানোর বেদনায় একত্র হওয়া। স্বজনদের খুঁজে বের করে কাটে টেনে নেওয়ার। দু’চোখের জল আছরে ফেলার। এক মহা মৃত্যুকুপে আটকা পড়েছে প্রিয়জনরা। যে যেভাবে পারছে উদ্ধার কাজে নেমে পড়ছেন। সামাজিক যোগাযোগ সাইট ফেসবুকে স্ট্যাটাসে ভরে যায়। সাভারে রানা প্লাজা ধস! হাজার হাজার পোশাক কর্মী আটকা পড়েছে। ঢাকার আশে পাশে যারা আছেন তারা যেন উদ্ধার কাজে অংশ নিয়ে মহান মানবতার পরিচয় দেন।
সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধারকৃত আহতদের চিকিৎসার জন্য কোন কোন গ্রুপের রক্তের প্রয়োজন সেটা স্ট্যাটাসে মিনিটে মিনিটে আপডেটে জানিয়ে দিচ্ছেন ফেসবুক বন্ধুরা। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এ খুদে বার্তা। ইতিমধ্যে টিভি চ্যানেল লাইভ শুরু করে দিয়েছে। টিভির পর্দায় ঢাকার বাইরের লোক ভিড় করে জন স্রাতের মতোই। সরাসরি সম্প্রচারে ফুটে উঠে ধসে পড়া ভবনের করুণ দৃশ্য।
স্বজনদের গগন বিধারী আর্তনাত। বিধ্বস্ত ভবনের ভিতর থেকে মুষ্টিমেয় কয়েকজন সুস্থ হয়ে বের হতে পেরেছিলেন। এই ভবনে রয়েছে ৫টি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি। এসব ফ্যাক্টরিতে কাজ করে হাজার হাজার পোশাক শ্রমিক। এখানে কেউ কেউ স্বামী-স্ত্রী, ভাই-বোন, আত্মীয়ের মধ্যে কেউ এবং কাজের সাথে সম্পৃক্ত সবাই আপন।
সেই আপনদের মধ্যে যাদের উদ্ধার করা হয়েছে, তারা বর্ণনা করেছে ধসে পড়া ভবনের ভিতরকার মৃত্যুকুপের ভয়াবহ অবস্থা। চোখ থেকে আর্তনাতের বৃষ্টি ঝরছে। বুক চাপড়ে বলছেন তাদের প্রিয়জনরা আটকা পড়েছেন।
বেঁচে আছেন কীনা জানা নেই, তাদের উদ্ধার করুন বলেই আবার হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন। কেউ খুঁজে পাচ্ছেন না তার সদ্য বিয়ে করা প্রিয়তম স্ত্রীকে। কেউ তার বোন ও ভাইকে। কান্নার জলে বেদনার বিবর্ণ রঙে সাভার হয়ে উঠে যেন এক শোকাহত মৃত্যুনগরী!
উপচে পড়া এনাম মেডিকেল হাসপাতালের চত্বর। বিকেলের দিকে অধরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে শুইয়ে রাখা হয় উদ্ধারকৃত নিহতদের সারি সারি লাশ। স্মরণকালে এ বিস্ময়কর মালিকপক্ষের অবহেলায় সাভার ট্রাজেডি অশ্রুসজল চোখে দেখছেন বিশ্বও। করুণ মৃত্যুর গীতারে সূর। স্বজনদের বুক চাপড়ানো বিকট কান্নার আকুতি।
আমার বাজানরে এনে দাও, আমার ভাইকে খুঁজে পাচ্ছিনা, এই যে তার ছবি দেখুন দেখুন…..; টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকরাও মজা নিচ্ছেন আহদের সাক্ষাতকার নিয়ে। যশোরের এক যুবক কয়েকদিন আগে কুলসুম নামের মেয়েকে বিয়ে করে একই গার্মেন্টস চাকরি করছিলেন। ভবন ধসের পর তাকে খুঁজে পাচ্ছেন না টিভি চ্যানেলকে জানালে সেটাই বারবার প্রচার করছিলেন। যখনই কাউকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে সেখানেই স্বজনদের জমে ভিড়। তাদের কেউ কীনা?
কী সম্পর্কের আত্মিক টান! সহানুভুতির হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন অনেকেই। জায়গায় জায়গায় রক্ত সংগ্রহের জন্য ক্যাম্প বসানো, পানি খাওয়ানোর ব্যবস্থা। সরকারি-বেসরকারিভাবে অ্যাম্বুলেন্স, ডাক্তারদের চিকিৎসা সেবাসহ বাড়িয়েছেন সমর্মিতার হাত। মানুষ মানুষের জন্য। জীবন জীবনের জন্য। কিন্তু ভবনের মালিক ও গার্মেন্টস এর মালিকরা কি সে গুরুত্ব দিয়েছিল?
৩ তলা ভবনের ফাটল দেখা দিলে শ্রমিকরা কাজে আসতে চায়নি। কিন্তু তাদের চাকরিচ্যুত করার ভয় দেখিয়ে জোর করে কাজে বাধ্য করিয়েছেন তাদের। এই ট্রাজেডির হত্যাকান্ডের দায় তারা কিভাবে শোধ করবেন? প্রতিটি নিহত শ্রমিকদের জীবনের মূল্য ২০ হাজার করে টাকা আর আহত শ্রমিকদের ৫ হাজার টাকা এমন আর্থিক সাহায্য করে? শ্রমিকদের জীবনের মূল্য কি এতই তুচ্ছ! তাদের হত্যা করে কিছু আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে শোধ হয়ে যাবে?
যে শ্রমিকদের শরীরের ঘামঝরা পরিশ্রমে দেশি-বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হয়। যাদের শরীরের ঘাম দিয়ে এদেশের গাড়ী হয়, বাড়ী হয় সেই শ্রমিকদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা? স্মরণকালের এই ভয়াবহ ভবন ধসের ট্রাজেডির নিহতদের পরিবার বয়ে বেড়াবেন স্বজন হারানোর বেদনা। আহতরা হয়তো বেঁচে থাকবেন জীর্ণশীর্ণ অবস্থা নিয়ে। কেউ পঙ্গু হয়ে পরিবারের অভিশাপ আর হয়তো তাকে দ্বারে দ্বারে ভিখেরি হয়ে চলতে হবে সারাটা জীবন।
এখনো চলছে উদ্ধার কাজ। ফেসবুকের পাতায় দেখছি মিনিটে মিনিটে বন্ধুদের দেওয়া নিউজ আপডেট। কেউ ঘটনাস্থল থেকে দিচ্ছেন, আবার কেউ টিভির সংবাদ শুনে দিচ্ছেন। অনেক ফেসবুকার রয়েছে যারা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রি মিডিয়ার সাংবাদিকতার সাথে জড়িত। তাদের নিউজ আপডেটে জানা যাচ্ছে,এখনো অনেক জীবিত আটকা পড়ে আছেন। রাত ১২টা পর্যন্ত নেটেই ছিলাম।
ফেসবুকে অনেকে অনেক মমতায় নিয়ে লিখছেন। কেউ কেউ সহযোগিতার জন্য স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এখন পর্যাপ্ত শুকনো খাবার, ঔষুধপত্রের প্রয়োজন। সহমর্মিতার জন্য সহযোগিতা চাচ্ছেন আর্ত্মমানবতাপ্রেমী স্বেচ্ছাসেবীরা। এই এনাম মেডিকেল কলেজের হাসপাতালের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও ডাক্তাররা ঢেলে দিচ্ছেন পূর্ণ মানবিকতার সেবা।
এ কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থীরা ২০০ ব্যাগ রক্ত দিয়েছেন, আশেপাশে মাদ্রাসার ছাত্ররাও রক্ত দেওয়ার জন্য লাইন ধরে দাঁড়িয়েছিলেন। বিভিন্ন স্পটে রক্তসংগ্রহ কর্মসূচিতে স্বেচ্ছায় সেবায় শ্রম দিয়েছেন প্রথম আলো বন্ধুসভাসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এই যে ভালবাসা, জীবন বাঁচানোর জন্য মানবতার সেবাব্রতীদের কৃতজ্ঞতার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে শরীরের লোম জেগে উঠে।
দেবতার মতো পুঁজো দিতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু এই দৃশ্য কি এদেশের ক্ষমতাসীন সরকারের সাংসদরা চোখ তুলে দেখছেন? গতকাল এই ভয়াবহ ট্রাজেডির উদ্ধারকাজে না এসে অনেক রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সংযতহীন বাক্যলাপ শুনে কষ্ট হয়েছে। যেখানে হাজার সাধারণ মানুষ নেমে পড়েছে উদ্ধার কাজে। প্রধানমন্ত্রী প্রেসব্রিফিংয়ে বলেছেন, টকশোতে বড় বড় কথা না বলে উদ্ধার কাজে অংশ নিন। টিভির ক্যামেরায় কথা বলা যায় কিন্তু মানবতায় হাত বাড়াতে কষ্ট হয় এমন নজিরও দেখলাম।
এক ফেসবুকের বন্ধু আক্ষেপ করে স্ট্যাটাস জানালেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্লগার রাজীব হায়দার শুভ’র হত্যাকান্ডের পর তার বাসায় গিয়েছিলেন। শহীদ বলে ঘোষণাও দিয়েছিলেন। কিন্তু সাভারের এ ভয়ানক ভবন ধসের ট্রাজেডির মৃত্যুস্তুপ দেখতে আসলেন না। আসার কথাও নয়, হেফাজত ইসলামকে রুখতে গার্মেন্টস কর্মী নারীদের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেই গার্মেন্টসকর্মী নারীরা ভবন ধসে মৃত্যুকুপে পিষ্ট হয়ে আছে, এখন তাদের প্রয়োজন হয়।
রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা নাকি এখন দলের কেউ নন। সাভার থেকে পৌর শহর যুবলীগের তালিকা নিয়ে সংগ্রহ করে সংসদে জানালেন, রানা যুবলীগের কেউ নন। কী আশ্চর্য ! সাভার থানা যুবলীগের আহ্বায়ক হিসেবে সাভারের রাজপথে হাজারও ব্যানার, ফেস্টুন টাঙ্গানো আছে। এটাকে তিনি অস্বীকার করলেন! ঠিকই অস্বীকার করেছিলেন ৯ ডিসেম্বর/১২ বিশ্বজীৎ দাসকে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা প্রকাশে রাজপথে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নৃশংশভাবে খুন করার পরেও তারা ছাত্রলীগের কেউ ছিলেন না।
অদ্ভূত এদেশের রাজনীতি ! ফরমালিনে মেশানো অন্ধ বিবেক। বিবর্জিত প্রেম-ভালবাসা। মৃত্যুর দায়ভার গ্রহণ করতে এ রাষ্ট্র পরিচালকরা যেন রাজী নন। ট্রাজেডির পর শোকবার্তা জানিয়েই জনমঞ্চে, প্রেসব্রিফিং ও টিভির ক্যামেরার সামনে সমবেদনা জানিয়ে মিথ্যা অভিনয়ে চকচকে রুমাল দিয়ে চোখ মুছবেন। মানবতার প্রেমের দুয়ারে যাদের কাটাতারের অর্থের লোভ ও স্বার্থেরবেড়া তাদেরকে বিপন্ন মানবতার করুণ চিত্র বুঝানো নিস্ফল কাজ।
সাভার এই ভয়াল ট্রাজেডির পোশাক শ্রমিক হত্যার দায় তারা নিবেন এটা নিস্ফল কল্পনা মাত্র। তাই হয়তো এ যুগের সত্যভাষী সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফ সাভার ট্রাজেডি। ‘মালিকের জন্য দায়মুক্তি জাতির জন্য শোক’ কলামে বলেছেন-‘নারায়নগঞ্জের প্যানটেক্স গার্মেন্টর মালিকের কিছু হয়নি। চট্টগ্রামে আগুনে অঙ্গার অজস্র শ্রমিকের মালিকেরও কিছু হয়নি।
তাঁরা দেশের মালিক, আইনের মালিক, এমনকি অধীনে কর্মরত শ্রমিকদের জীবন-মৃত্যুর মালিকদের ম্যানেজার (প্র.আ.২৫এপ্রিল)।’ ঠিক গতবছর তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিদগ্ধ শ্রমিকদের মালিকেরও কিছু হয়নি। হবেও না; অর্থের কাছে বিবেকের দরজায় লাগানো তালা। আজ সাভারে ভবন ধসে আটকা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধার করতে যত যন্ত্রপাতির অভাব। অথচ জাতীয় সংসদটা যদি এমনভাবে ধসে পড়ে তিনশ জন সাংসদের এমন অবস্থা হতো তাহলে কি যন্ত্রপাতির অভাবের কথা উঠতো!
যতদিন এ নষ্ট রাজনীতি ও অন্ধ বিবেক দিয়ে দেশ চালিত হবে ততোদিন লাশের স্তুপে স্বজনদের হারানোর যন্ত্রনার ভিতর সময় কাটাতে হবে। যত দূর চোখ যায়, ততো দূর পর্যন্ত শুধু লাশের সারিই চোখে পড়বে। হয়তো সেদিন সোনার বাংলাদেশ নাম অ্যাফিডিভিট করে রাখা হবে লাশের দেশ বাংলাদেশ।
২৭ এপ্রিল/১৩